জয়পুর: ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিনত করার উদ্যোগ নিয়ে মুসলিমদের দুর্জন হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হলে দেশ কমপক্ষে ৪৫ টুকরা হয়ে যাবে বলে সাবধান করলেন কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী মণিশঙ্কর আয়ার।
তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার। জয়পুরের কানোরিয়া কলেজে ‘ভারতের ভবিষ্যৎ মেকি হিন্দুত্ব না ধর্মনিরপেক্ষ ভারত' শীর্ষক আলোচনাচক্রে মণিশঙ্কর ভাষণ দেন। ভাষণে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনও দেশ যদি বহিস্কারের ভিত্তিতে এগোয় সেই দেশ টিকতে পারেনা।
ভারতে হিন্দুরা প্রবলভাবে সংখ্যাগুরু। মুসলিমরা বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাদের সংখ্যা ২০ কোটির মতো।এছাড়াও ৫ কোটি অন্য ধর্মের মানুষ রয়েছেন। এর জন্য এইদেশকে হিন্দু দেশ হিসেবে ঘোষণা করা, হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা, মুসলিমদের শত্রু প্রতিপন্ন করা, কারণ আমরা প্রায় হাজার বছর তাঁদের দ্বারা শাসিত ছিলাম, এসব চিন্তাভাবনা থেকে আমরা যদি জাতীয় সত্তা গড়তে যাই এদেশ টিকবেনা। ৪৫ টি স্বতন্ত্র দেশ তৈরি হবে।
মণিশঙ্কর বলেন, ভারতের শক্তি নিহিত নানা ধর্ম, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে বিস্তৃত তার বৈচিত্র্যে। এমনকি হিন্দুদের আচার আচরণ এক এক অঞ্চলে এক একরকম। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিদেশ থেকে এসেছেন বলে তাঁদের আনুগত্য সেই বিদেশি রাষ্ট্রে নিহিত, একথা তিনি বিশ্বাস করেননা।
আমাদের ফিল্মের নায়ক শাহরুখ খান, আমির খান, সলমন খান। তাঁদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হয়। সওদি আরব বা বাংলাদেশ বা অন্য দেশে যেতে বলা হয়না কেন ? এটা বলা হয় শুধুমাত্র ঘৃণা ছড়াতে। কেন তাঁরা দেশ ছেড়ে যাবেন? তাঁদের এদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবু তাঁদের পরিবার এদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দু
ভাইদের পাশাপাশি বাস করতে থেকে গিয়েছেন। এর জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানানো দরকার। পরিবর্তে আমরা তাঁদের দেশ ছেড়ে যেতে বলছি। এটা ভুল।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুদেশে আলোচনা চালানো শুধু দরকার নয়, আবশ্যিক।অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একজন হিন্দু এবং ভারতীয়ের পাকিস্তানির সঙ্গে কথা বলা খুব সহজ। কারণ দুজনের ভাষা একই। মনোভাব এবং সংস্কৃতি মোটামুটি একই। আমরা পরস্পরকে ভালোভাবে বুঝি। ওদের তৈরি কাবাব বোধহয় আমাদের থেকে ভালো। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নামতেই পারি এসব বানানো নিয়ে।
দেশভাগের প্রহসন না হলে দুই দেশের নাগরিক একই দেশের নাগরিক হতেন। আজ সেই দেশের বিরুদ্ধে তোমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর কথা বলছ। সাহস থাকলে ওঁদের সঙ্গে বসুন, মুখোমুখি কথা বলুন। আপনাদের যেটার অভাব তা হল, নৈতিক সাহস, সরাসরি কথা বলার সাহস। আমাদের দুদেশের আলোচনা যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক, জটিল হোক, সেটাই চালিয়ে যাওয়া দরকার।
গোড়ায় এঁরা অভিযোগ জানাবেন। আমাদেরও জানাতে হবে। এই নিয়ে হয়তো কয়েক মাস সময় যাবে। পাকিস্তান
বলবে, ভারত কী ভুল করেছে। ভারতও বলবে, পাকিস্তান কী কী অপকর্ম করেছে। পহেলগাঁও থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত। এইভাবে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
আমেরিকা, ইজরায়েল এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে মণিশঙ্কর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্ন, আমরা আমেরিকাকে কেন তুষ্ট করার চেষ্টা করছি? হঠাৎ আমরা ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম কেন? আমরা রাশিয়ার উপরই বা এত নির্ভরশীল হচ্ছি কেন?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.