স্কুলের প্রাইমারি ও SSC শিক্ষকের চাকরি বিক্রির তদন্তে উঠে আসছে শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর নাম। - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

স্কুলের প্রাইমারি ও SSC শিক্ষকের চাকরি বিক্রির তদন্তে উঠে আসছে শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর নাম।

টাকা বিনিময়ে প্রাইমারি ও SSC শিক্ষকের চাকরি বিক্রি হওয়ার বড় চক্রের সন্ধান পুলিশ পেলেও তা কি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?

west bengal primary and ssc recruitment scam

প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, আদালতে অভিযােগকারী চাকরি বিক্রির যে সংখ্যার কথা জানিয়েছেন, তাতে শাসক দলের এজেন্টরা চাকরি বিক্রি করে শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকেই ৫০ কোটিরও বেশি টাকা তুলেছে।


আদালতের নির্দেশে তদন্ত করতে নেমে বর্ধমান সদর থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, চাকরি বিক্রির পেছনে শাসক দলের অনেক বড় বড় পান্ডা জড়িত। তদন্তে বার বার এক মন্ত্রীর নাম উঠে আসছে যিনি এই অফিসে ঘন ঘন আসতেন।

অভিযােগ, এই মন্ত্রীর দপ্তরে অপরাধীদের যাতায়াত ও প্রভাব ছিল যথেষ্ট। আরও অভিযােগ, ওই মন্ত্রীই চাকরি বিক্রির জাল চক্রকে পুরােপুরি পরিচালনা করতেন। তাঁর হাত ধরেই টাকা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছে যেত। তাহলে কি এই মন্ত্রীই পেছন থেকে এই চাকরি বিক্রির কারবার চালাতেন?

এও জানা গেছে অভিযুক্তরা এই মন্ত্রীর খুবই ঘনিষ্ঠ। টাকার লেনদেন হতাে গোপনে এবং নগদে। ১০ থেকে ১২ লক্ষে বিক্রি হয়েছে প্রাইমারি ও এসএসসি (SSC)-র চাকরি।

প্রতারিত যুবক অতনু রায় জানিয়েছেন, ক্যামেরার সামনে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। এই প্রতারকদের সঙ্গে মন্ত্রীর যোগাযােগ যে কতটা নিবিড় ছিল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

রাজ্যের ওই মন্ত্রীর সঙ্গে যেমন এজেন্টদের যােগাযােগ ছিল, তেমনই উঠে আসছে শিক্ষা মন্ত্রীর নামও। বর্ধমান থানার পুলিশ এত বড় দুর্নীতির তদন্ত কতটা স্বচ্ছভাবে করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযােগ শুধু একজন নন, টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এমন সংখ্যা নেহাত কম নয়। থানায় গেলে অপরাধীরা প্রভাবশালী বলে অভিযােগ নেওয়া হচ্ছে না।

এর আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যােগ দেওয়ার পর কালনার বিধায়ক স্বীকার করেছেন, তিনি শুধু তাঁর পরিবারের একাধিক লােককে চাকরি দিয়েছেন। কিন্তু আরও ৬২ জনকেও অন্যায়ভাবে প্রাইমারি শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে যেগুলি যোগ্য প্রার্থীদের সরিয়ে।

বর্ধমান শহরের প্রতারিত যুবক অতনু রায় বলেছেন, তিনি তৃণমূল করেন, দলের অফিসে কাজ করতেন। সেখানেই দেখেছেন বহু বেকার ছেলে-মেয়ে টাকা দিয়েছিলেন চাকরির জন্য। কিন্তু চাকরি না পেয়ে তাঁরা শাসক দলের নেতাদের পেছনে পেছনে ঘুরছেন, প্রতারিত হয়েছেন।

তিনি নিজেও ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা উত্তম সেনগুপ্ত, তাঁর স্ত্রী শিখা সেনগুপ্ত ও অয়ন ব্যানার্জি নামে এক এজেন্টের নামে বর্ধমান থানায় অভিযােগ দায়ের হয়।

প্রতারিত যুবক স্বীকার করেছেন, তিনি যে অফিসে শাসক দলের হয়ে কাজ করতেন, সেখানে না কি ১৫৩ জনের অনৈতিক পথে চাকরি হয়েছে। এর আগে প্রতারিত যুবক অতনু রায় বর্ধমান থানায় অভিযােগ জানাতে যান, কিন্তু চক্রের সঙ্গে যেহেতু শাসক দলের প্রভাবশালীরা যুক্ত, তাই পুলিশ সেই অভিযােগ নেয়নি।

অভিযােগ জানানাের পর অতনু রায়ের সঙ্গে যােগাযােগ করার চেষ্টা হলে দেখা গিয়েছে, তাঁর মােবাইলের সুইচ বন্ধ। তিনি কোথায় আছেন, তা কেউ বলতে পারছেনা।

তবে জানা গিয়েছে, শুধু অতনু রায় নন, এমন অনেক বেকার ছেলে-মেয়েই টাকা দিয়েও টেটে নাম না ওঠায় প্রতারিত হয়ে থানায় যাচ্ছেন। কিন্তু বিচার পাওয়ার জন্য থানাতে ছুটাছুটি করে জুতাে ছিড়ে গেলেও তাঁদের অভিযােগ পুলিশ নিচ্ছে না।

চাকরি বিক্রির এই দুর্নীতির উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হলে শাসক দলের অনেক রাঘব বোয়াল ফাঁসবেন। কী পরিমাণ চাকরি গত ১০ বছরে বিক্রি হয়েছে, স্বচ্ছভাবে অনুসন্ধান হলে মাথায় হাত পড়বে বেকার ছেলে-মেয়েদের, যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাবেন বলে বড় ভরসা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের উপর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad