অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়ার পর বৈশাখী ব্যানার্জি (Baishakhi Banerjee) খালি গলায় গাইছিলেন, “হয়তাে তােমারই জন্য, হয়েছি প্রেমে যে বন্য, জানি তুমি অনন্য, আশার হাত বাড়াই।"
মান্না দের বিখ্যাত সেই গানের একমাত্র শ্রোতা ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শােভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee) মাঝে মাত্র একটা দিন। দশমীর বিকেলে দেবী দুর্গাকে সাক্ষী রেখে বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুরদান করলেন শােভন। শুক্রবার সেই গানের অন্তরা গেয়ে যেন উত্তর দিলেন, “তুমি তাে বলনি মন্দ, তবু কেন প্রতিবন্ধ, রেখাে না মনের দ্বন্দ্ব, সব ছেড়ে চল যাই।”
দুজনে দু'জনকে মন দিয়েছিলেন অনেক আগে। ১৩ বছরের পরিচয়। মাঝে রাজ্যের শাসক বদল হয়েছে। একাধিক দফতরের মন্ত্রিত্ব ও কলকাতার মহানাগরিকত্ব পেয়েছেন শােভন। ঝড়-ঝঞা এসেছে। মন্ত্রিত্বসহ মেয়র পদ ছেড়েছেন। বৈশাখীও ছেড়েছেন অধ্যাপনার চাকরি। এক দশকে দেদার উপহার দেওয়া নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এদিন বৈশাখীর কাননে এসেছে ভালবাসার সেরা স্বীকৃতি।
দু’জনের রাজনীতি, সম্পর্ক, নাচ-গানের ভিডিও, পুজোর ফ্যাশন নিয়ে চর্চা হয়েছে বিস্তর। উমার বিদায়ের দিন যেন পূর্ণতা পেল সম্পর্ক। বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুরদানের পর শােভন বলেন, “সিঁদুরখেলা বাঙালীর জীবনে সুস্থ এবং স্বাভাবিক সংস্কৃতি। যা করলাম, ভেবেচিন্তে করেছি। আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের প্রতিফলন দেখতে পেলেন আপনারা।” এরপরই কিছুটা দ্ব্যর্থবােধক সুরে বলেন, “রইল যারা পিছন পানে কাঁদবে তারা কাঁদবে।”
বিরাটিতে এক পারিবারিক দুর্গাপুজোয় শামিল হয়েছিলেন শােভন-বৈশাখী। সেখানে দেবীবরণের পর সিঁদুরখেলায় অংশ নেন তাঁরা। শুধু গালে নয়, বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন শােভন। আবেগের মুহূর্তে বৈশাখী বলেন, “অনেকে অনেক কথাই বলেছেন। কেউ ভেবেছেন হয়তাে শােভন আমাদের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেবে না। কিন্তু আজ সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ও সত্যিই স্বীকৃতি দিল।" এরপরই জুড়ে দেন, “আমার কাছে দুর্গা পুজোর দু'টো দিন বেশি প্রিয়। অষ্টমীতে অঞ্জলি আর বিজয়ায় সিঁদুরখেলা। এবারের বিজয়া দশমী সত্যিই স্মরণীয় হয়ে রইল।"
মাস কয়েক আগে ফেসবুকে নিজের সঙ্গে শােভনের ছবি পােস্ট করে বৈশাখী ক্যাপশনে লেখেন, 'আমি থেকে আমাদের একসাথে পথ চলা শুরু। কিছুদিন আগে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বৈশাখীর নামে লিখে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
দু'জনের জীবনে পুরনাে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাতে প্রেম ছিল না বলে দাবি করেছেন শােভন। তার বক্তব্য, স্বার্থ থাকলে তা ভাঙে। বৈশাখীর নিষ্ঠা এবং অকৃত্রিম ভালবাসা আমায় ভরিয়ে দিয়েছে।
বৈশাখী বলছেন, শােভনের সারল্য এবং সততায় মুগ্ধ তিনি। উনি একবার বুক দেখালে পিছন দেখান না। শােভন বলছেন, তৃণমূল বা বিজেপি কারও সঙ্গে যেমন প্রতারণা করিনি, তেমনি কোনও ব্যক্তির সঙ্গেও প্রতারণা করিনি। বয়স বাড়ে, মৃত্যুও হয়। কিন্তু সম্পর্ক থেকে যায়। এদিকে, রত্না চ্যাটার্জির সঙ্গে যােগাযােগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.