শুভেন্দুর পূর্বপুরুষের ভিটে খণ্ডঘোষের কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামে খুশির হাওয়া। - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

শুভেন্দুর পূর্বপুরুষের ভিটে খণ্ডঘোষের কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামে খুশির হাওয়া।

Suvendu Adhikari relative Biswarup Chakraborty
অধিকারী পরিবারের বংশধর বিশ্বরূপ চক্রবর্তী ডানদিকে ও ঘনরাম চক্রবর্তী 

বর্ধমান : শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের নবম‌ মুখ্যমন্ত্রী হতেই ব্যাপক খুশির হাওয়া বর্ধমানের খণ্ডঘোষ‌ ব্লকের কুকুরা গ্রামে। এই গ্রামেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর‌ পূর্বপুরুষরা। পরে তাঁরাই অধিকারী উপাধি নিয়ে মেদিনীপুরে বসবাস শুরু করেন। বর্ধমানের বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ড.‌ সর্বজিৎ যশ জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরের‌ কাঁথির ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই অধিকারী‌ পরিবারের আদি নিবাস ছিল বর্ধমান। প্রায় ৫০০ বছর আগে এই পরিবারের বসবাস ছিল বর্ধমান জেলার দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের খণ্ডঘোষ ব্লকের কৃষ্ণপুর-কুকুরা গ্রামে। যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ধর্মমঙ্গলকাব্য খ্যাত রাঢ়ের মধ্যযুগের সুপরিচিত কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

এই গ্রামেই জন্মান আরেক স্বাধীনতা সংগ্রামী রমারানি তা। শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার চক্রবর্তী উপাধিধারী সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ ছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেব যখন রাঢ় পরিক্রমার শেষে ওড়িশার পথে গমণ করেন, শুভেন্দুবাবুর পূর্বপুরুষ তাঁর সঙ্গী হন। চৈতন্য প্রভাবে তিনি বৈষ্ণব হন আর অধিকারী উপাধি পান, যা পরে তাঁর বংশধরগণ পদবী হিসাবে ব্যবহার করতে থাকেন।

শুভেন্দু অধিকারীর এক খুড়তুতো কাকা খুব অল্প বয়সে সন্ন্যাসী হয়ে যান। শুভেন্দু অধিকারীও ছোটো থেকে কাঁথি রামকৃষ্ণ মিশনে যাতায়াত করতেন। প্রতি শনিবার মিশনে যেতেন আর সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করতেন। বিয়ে না করায় শুভেন্দু অধিকারীও সন্ন্যাসী হয়ে যেতে পারেন বলে বাড়ির লোকরা মনে করতেন। কিন্তু, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরেন্দ্রনাথ শ্যাসমল, অজয় মুখার্জি, সতীশ সমস্ত, সুশীল ধারাকে আদর্শ হিসাবে মেনে নেওয়া সেই মানুষটি আজ রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর এই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবরে যারপরনাই খুশির হাওয়া বর্ধমানের এই গ্রামে। এই চক্রবর্তী বংশের বর্তমান পুরুষ তথা ঘনরাম চক্রবর্তীর উত্তরপুরুষ বিশ্বরূপ চক্রবর্তী জানান, এটা গায়ে কাঁটা দেবার মতোই ঘটনা।

তিনি জানান, বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ড. সর্বজিৎ যশই তাঁকে এই বিষয়টি জানান। আর তা জানার পরই গোটা গ্রাম খুশীতে টগবগ করে ফুটছে। বিশ্বরুপবাবু জানান, শুভেন্দুবাবুর পূর্বপুরুষরা এই গ্রামে ছিলেন। তাই এই গ্রামের যাবতীয় পরিস্থিতি, কবি ঘনরাম চক্রবর্তীর ইতিহাস, তাঁর নামে তৈরি হওয়া অসমাপ্ত সংগ্রহশালা সবকিছু তথ্য নিয়েই তাঁরা দেখা করতে চান শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে।

প্রত্যেক বছর বাংলার মাঘ মাসের ২৬ থেকে ২৮ মাঘ ঘনরাম চক্রবর্তী মেলা বসে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এবার জানুয়ারী সেই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরা চান শুভেন্দু একবারের জন্য হলেও তাঁর মহামূল্যবান সময় থেকে একটু সময় বার করে আসুন এই গ্রামে। তাহলে তাঁরা ধন্য হবেন।

আগামীদিনে শিক্ষার্থী, গবেষকদের জন্য ঘনরাম চক্রবর্তীর নামাঙ্কিত এই সংগ্রহশালার উন্নতি হবে।অধিকারী পরিবারের বংশধর গোলাপী গেঞ্জি পরা বিশ্বরূপ চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad