একাদশী ২০২৬ সম্পূর্ণ সময়সূচী। পারণ সময়, সংকল্প মন্ত্র, পারণ মন্ত্র, ব্রত পালনের সম্পূর্ণ নিয়ম ও নিষেধ - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

একাদশী ২০২৬ সম্পূর্ণ সময়সূচী। পারণ সময়, সংকল্প মন্ত্র, পারণ মন্ত্র, ব্রত পালনের সম্পূর্ণ নিয়ম ও নিষেধ

Pashankusha Ekadashi date and time


পাশাঙ্কুশা একাদশী সময়সূচী : আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষীয়া একাদশীর নাম পাশাঙ্কুশা। সনাতন ধর্ম অনুসারে একাদশী তিথি অতি পূণ্য তিথি হিসেবে বিবেচিত। কেননা এই তিথি ভগবানের প্রিয় তিথি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সের যেকোনো ব্যক্তির ভক্তি সহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা উচিৎ। একাদশী ব্রত পালন করে একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণ করলে শ্রী হরির কৃপা লাভ ও সৌভাগ্যের অধিকারী হওয়া যায়। 

আজকের এই এপিসোডে আলোচনা করা হয়েছে অতি পবিত্র পাশাঙ্কুশা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য, একাদশী ব্রত পালনের নিয়মাবলী, একাদশীতে নিষিদ্ধ খাদ্যশস্য, পরের দিন পারণের সময়সূচী ও পারণের মন্ত্র ও কিভাবে সংকল্প করবেন ও সংকল্প মন্ত্র।

পাপাঙ্কুসা একাদশী শুরু হচ্ছে ২১ শে অক্টোবর ২০২৬ বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩ রা কার্ত্তিক বিকাল ২:১৩ মিনিটে এবং একদশী শেষ হচ্ছে ২২ শে অক্টোবর ২০২৬ বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৪ ঠা কার্ত্তিক বিকাল ২:৪৯ মিনিটে। আর এই দিনেই একাদশী পালন করতে হবে।
সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচ কালেও কখনো একাদশী ব্রত পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা।



তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক পাশাঙ্কুশা বা পাপাঙ্কুশা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য :
আশ্বিন শুক্লাপক্ষীয়া পাশাঙ্কুশা একাদশী মাহাত্ম্য ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে বর্ণিত আছে। যুধিষ্ঠির বললেন-হে মধুসুদন। আশ্বিন শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি? তার উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজেন্দ্র! আশ্বিনের শুক্লপক্ষীয়া একাদশী 'পাশাঙ্কুশা' নামে প্রসিদ্ধা। কেউ কেউ একে পাপাড়ুশাও বলে থাকেন। এই একাদশীতে অভিষ্ট ফল লাভের জন্য মুক্তিদাতা পদ্মনাভের পূজা করবে। শ্রীহরির নাম-সংকীর্তন দ্বারা পৃথিবীর সর্ব তীর্থের ফল লাভ হয়। সকল মনুষ্য মোহবশত বহু পাপকর্ম করেও ভগবান শ্রীহরির শরণাপন্ন হয়ে প্রণাম নিবেদনে নরকযাতনা থেকে রক্ষা পায়। 

এই একাদশীর মহিমা শোনার ফলে নিদারুণ যমদণ্ড থেকে মুক্তি লাভ হয়। শ্রীহরিবাসর ব্রতের মতো ত্রিভুবনে পবিত্রকারী আর কোন বস্তু নেই। হাজার হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ এবং শত শত রাজসূয় যজ্ঞ এই ব্রতের শতভাগের একাংশের সমান হয় না। এই ব্রত পালনে স্বর্গবাস হয়। মুক্তি, দীর্ঘায়ু, আরোগ্য, সুপত্নী, বন্ধু প্রভৃতি অনায়াসে লাভ করা যায়।

হে রাজন! গয়া, কাশী এমনকি কুরুক্ষেত্রও শ্রীহরিবাসর অপেক্ষা পুণ্যস্থান নয়। হে ভুপাল। একাদশী উপবাস ব্রত করে রাত্রি জাগরণ করলে অনায়াসে বিষ্ণুলোকে গতি হয়। এই পাশাঙ্কুশা ব্রতের ফলে মানুষ সর্বপাপ মুক্ত হয়ে গোলোকে গমন করতে সমর্থ হয়।

এই পবিত্র দিনে যিনি স্বর্ণ, তিল, গাভী, অন্ন, বস্ত্র, জল, ছত্র, পাদুকা দান করেন, তাঁকে আর যমালয়ে যেতে হয় না। যারা এসকল পুণ্যকার্য করে না, তাদের জীবন কামারশালার হাপরের মতো বিফল। নিষ্ঠার সাথে এই ব্রত পালনে উচ্চকুলে নিরোগ ও দীর্ঘায়ু শরীর লাভ হয়। অত্যন্ত পাপাচারীও যদি এই পুণ্যব্রতের অনুষ্ঠান করে তবে সেও রৌরব নামক মহাযন্ত্রনা থেকে মুক্ত হয়ে বৈকুণ্ঠসুখ লাভ করে। কৃষ্ণভক্তি লাভই শ্রীএকাদশী ব্রতের মুখ্য ফল। তবে আনুষাঙ্গিকরূপে স্বর্গ, ঐশ্বর্যাদি অনিত্য ফল লাভ হয়ে থাকে।

একাদশী ব্রত পালনের নিয়মাবলী :
১। সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার ও দ্বাদশীতে একাহার করবেন।
২। তা হতেও অসমর্থপক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।
৩। যদি তাতেও অসমর্থ হন একাদশীতে পঞ্চ রবিশষ্য বর্জন করে ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রহিয়াছে। সমর্থ পক্ষে রাত্রি জাগরণের বিধি আছে।

গৌড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্যবৃন্দের অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা অর্থাৎ জল ব্যতীত থেকে পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেগুলি করলে সর্বোত্তম হয়। নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু সবজি ফল মূলাদি গ্রহণ করতে পারেন। যেমন-গোল আলু, মিষ্টি আলু ও চাল কুমড়া, পেঁপে, টমেটো, ফুলকপি ইত্যাদি সবজি। ঘি, বাদাম তৈল অথবা সূর্যমুখি তেল দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করতে পারেন। জিরা, ধনিয়া, আদা, তেজপতা, লবন অর্থাৎ সৈন্ধক লবণ ও মরিচ ব্যবহার্য। 

আবার অন্যান্য আহার্য যেমন- দুধ, কলা, আপেল,কমলা, আঙ্গুর, আনারস, আখ, আমড়া, শশা, তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি আলু, বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফল মূলাদি খেতে পারেন।

এবার জেনে নেব 
একাদশীতে কোন কোন খাদ্যশস্য নিষিদ্ধ :

 ধান জাতীয় - যেমন চাল,মুড়ি,চিড়া,খই, শ্যামাচাল,কাউন ইত্যাদি। 
গম জাতীয় - যেমন আটা, ময়দা, সুজি, পউরুটি, হরলিক্স, বিস্কুট ইত্যাদি। 
যব/ভূট্টা জাতীয় - যেমন ছাতু, ভুট্টার খই ইত্যাদি। 
ডাল জাতীয় - যেমন সব ধরনের ডাল। 
সবজি জাতীয় - যেমন বরবটি, শিম,মটরশুঁটি, বেগুন, টমেটো, গাজর,মূলা ইত্যাদি। 
তৈল জাতীয় - যেমন সরিষা তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি।

উপরোক্ত পঞ্চরবি শস্যের যে কোন একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত ভঙ্গ হবে। উল্লেখ্য যারা সাত্ত্বিক আহারী নন এবং চা, বিড়ি/সিগারেট, পান, কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেন একাদশী ব্রত পালনের সময় ঐগুলি গ্রহণ না করাই উত্তম। 

একাদশী পালন করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের সদগতি হবে তা নয় নিজের মৃত পিতা/মাতা নরকবাসী হলে তারাও নরক থেকে উদ্ধার পাবে। যদি কেউ কোন বিধি নিষেধ পালন ছাড়া উদ্দেশ্যহীন ভাবেও একাদশী ব্রত করে থাকে তবে ঐ ব্যক্তির একাদশীর সম্পূর্ণ ফল পাবে। একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে এবং অন্যকে অন্ন ভোজন করালেও নরকগতি হবে। 

পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের যে সময় দেওয়া থাকে সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা বিধেয়। নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ হয় না। দশমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে ফুল নিবেদন করে সঙ্কল্প করবেন, “হে ভগবান! আমাকে কৃপা করুন যাতে আগামীকাল একাদশী যেন নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারি।”
একাদশী সংকল্প মন্ত্র 
"একাদশ্যাম্‌ নিরাহারঃ স্থিতা অহম্ অপরেহহনি।
ভোক্ষ্যামি পুন্ডরীকাক্ষ স্মরনম্‌ মে ভবাচ্যুত॥ (৩ বার)

অনুবাদ: “হে পুন্ডরীকাক্ষ! হে অচ্যূত! একাদশীর দিন উপবাস থেকে এই ব্রত পালনের উদ্দেশ্যে আমি আপনার স্মরণাপন্ন হচ্ছি।”

পারণের সময়সূচী :
২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৫ টা ৫৯ মিনিট থেকে হতে ৯.৪৮ মিনিটের মধ্যে। 

পারণ মন্ত্র :
একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব। 
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভাব।। 

বাংলা অনুবাদ:
“হে কেশব! আমি অজ্ঞানরূপ অন্ধকারে নিমজ্জিত আছি। হে নাথ! এই ব্রত দ্বারা আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমাকে জ্ঞানচক্ষু প্রদান করুন।”

এই মন্ত্র পাঠ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ করতে হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad