রােজ যা স্বাস্থ্যকর ভেবে খাচ্ছেন, সেটাই হয়ে যেতে পারে আপনার শরীরে সবচেয়ে ক্ষতিকারক। গমজাতীয় খাবারে থাকা Gluten থেকে সাবধান। - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

রােজ যা স্বাস্থ্যকর ভেবে খাচ্ছেন, সেটাই হয়ে যেতে পারে আপনার শরীরে সবচেয়ে ক্ষতিকারক। গমজাতীয় খাবারে থাকা Gluten থেকে সাবধান।

রুটি, তরকারি কিংবা লুচি আলুরদমের সুস্বাদের আড়ালে শুধু কার্বোহাইড্রেটের হানাই নয়, লুকিয়ে রয়েছে ‘গ্লুটেন' (Gluten) কেলেঙ্কারিও।

What is Gluten, beware of gluten in wheat foods

রােগা হতে সারাদিন বেশি করে গম জাতীয় খাবারের উপর ভরসা মােটেই নিরাপদ নয়। গম জাতীয় আহার বেশি হলেই শরীরে গ্লুটেনের মাত্রা ডেকে আনতে পারে অন্য অসুখও।


গ্লুটেন কী?


গ্লুটেন একধরনের প্রােটিন। সাধারণত গমজাতীয় যে কোনও খাবারেই এর উপস্থিতি বর্তমান। গম, রাই ও বার্লিতে গ্লুটেনের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। যদিও এটা এক ধরনের প্রােটিন, তবুও এটার কিছু খারাপ প্রভাব রয়েছে শরীরে।

কেন ক্ষতিকারক?


কারণ, এই ধরনের খাবার গুলি দীর্ঘদিন ধরে খাওয়ার ফলে অনেকেরই ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম ক্ষমতা বিনষ্ট হতে পারে। ফলে অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে যে ধরনের পুষ্টির প্রবেশ ঘটে যেমন, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি যেগুলি ক্ষুদ্রান্ত্রে ঠিকমতাে দ্রবীভূত হতে পারে না ফলে ধীরে ধীরে এক জনের শরীরে রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা কমতে থাকে, যা অনেক অসুখ ডেকে আনতে পারে । ‘সিলিয়াক ডিজিজ' থাকলে তাদের জন্য গ্লুটেন অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।

এটি এক ধরনের অটো ইমিউন ডিজিজ। এই অসুখে গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট জরুরি। সিলিয়াক ডিজিজের জন্য অন্যতম দায়ী খাবারে উপস্থিত গ্লুটেন। এছাড়া বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্য, গ্লুটেনের প্রভাবে শরীরে অন্যান্য রােগও বাসা বাঁধছে। যার মধ্যে অন্যতম হল ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব, নার্ভের অসুখ।

দেখা যাচ্ছে, যাঁদের আগে থেকেই এমন রােগ রয়েছে, তারাও যদি গ্লুটেন জাতীয় খাবার বেশি খান তাহলে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তথ্য মিলেছে, আটা, ময়দার খাবার খেয়ে গ্যাস-অম্বলের যে সমস্যা হয় তার পিছনে একটি কারণ তাতে উপস্থিত গ্লুটেন।

তবু গ্লুটেন বিনা বাঁচা দায়!


গ্লুটেন-ফ্রি খাবার, আমাদের খাদ্য তালিকায় খুব কমই রয়েছে। রুটি, লুচি, পরােটা, পাউরুটি, বিস্কুট, নিমকি, এগরােল, চাউমিন, শিঙাড়া ইত্যাদি আটা-ময়দা বা গম জাতীয় খাবারই আমাদের রােজের খাদ্য তালিকায় প্রায় থাকেই। এগুলি সবই গ্লুটেন সমৃদ্ধ। তাহলে এগুলি ডায়েট থেকে বাদ দেওয়াই কি সবচেয়ে উত্তম উপায়?

খুব সহজে বলতে গেলে, এগুলি পুরােপুরি বর্জন করা বাঙালিদের পক্ষে বেশ কঠিন। সপ্তাহে এক-আধ দিন এগরােল, চাউমিন খাওয়া হয়েই যায় কিংবা লুচি,পরােটা। বাইরের না হলেও ঘরে তৈরি করা মুখরােচকের মধ্যে এগুলি অন্যতম। কাজেই গ্লুটেন শরীরে প্রবেশ করে।অল্পতে তেমন ক্ষতি নেই, কিন্তু এই উৎসবের মরশুমে যদি টানা তিন-চার বেলা গম জাতীয় খাবার খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতি আছে বইকি!

বিশেষত যাঁদের নার্ভের সমস্যা, গ্লুটেন অ্যালার্জি কিংবা বন্ধ্যাত্ব রয়েছে তারা এই ধরনের খাদ্য সেবনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

গ্লুটেন ফ্রি-তে ভরসা করুন :


এখন প্রশ্ন হল, তাহলে খাবেন কী? গ্লুটেন-ফ্রি বা গ্লুটেন নেই এমন খাদ্যের তুলনায়, ওটস জাতীয় খাবার, চাল বা ভাত, চিড়ে, মুড়ি, ভুট্টা বা ভুট্টার তৈরি খাবার রয়েছে। এছাড়া ফল, ফলের রস, সবজি, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার (দই, লস্যি, পনির) খাওয়া যেতে পারে।

পুজোর ডায়েটে :


১. সারাদিন গমজাতীয় খাবার মেনুতে অল্প পরিমাণ রাখুন। গ্লুটেন একেবারে বাদ দেওয়াও ঠিক নয়। তবে মেপে-বুঝে খেতে হবে। একবেলা রুটি, লুচি কিংবা বিস্কুট চলতে পারে। সঙ্গে চালের খাবার (ভাত, পােলাও, বিরিয়ানি) বুঝে পরিমাণ মতাে এক-আধ দিন খান।

২. লাঞ্চে ভারী মেনু থাকলে সেক্ষেত্রে ব্রেকফাস্টে ওটস কিংবা কর্নফ্লেক্স চলতে পারে।

৩. কোনও দিন ইডলি, ধােসা রাখা যেতে পারে কোনও এক বেলার মেনুতে।

৪. রাস্তায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এগরােল, চাউমিনের বদলে টকদই, লস্যি খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad